শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

বন্ধের পথে কুষ্টিয়ার জগতি ও বড়বাজার রেলস্টেশন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ২১৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত তিনটি রেলস্টেশনই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে দেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি রয়েছে। বাকি দুটির মধ্যে একটি বড়বাজার স্টেশন এবং অন্যটি কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন। কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনটির অবস্থা কিছুটা ভালো থাকলেও বাকি দুটি প্রায় মৃত। ৬ বছর ধরে বন্ধ আছে জগতি স্টেশন। আর বড়বাজার স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন থামলেও অবকাঠামোর অবস্থা নাজুক। শহরের তিনটি স্টেশনেই সংস্কার করার পাশাপাশি সব ট্রেনের স্টপেজ দাবি করেছে নগরবাসী। জানা যায়, ১৮৪৪ সালে আর এম স্টিফেনসন কলকাতার হাওড়া থেকে পশ্চিমবঙ্গের কয়লাখনি সমৃদ্ধ রানীগঞ্জ শহর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেন। এ কোম্পানি ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেললাইন চালু করে।এর পর ১৮৬২ সালের ইন্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে কলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত লাইন বর্ধিত করে। ওই বছরেই কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত ৫৩ দশমিক ১১ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি করে। এর পর পূর্ববঙ্গের প্রথম স্টেশন জগতি তৈরি করা হয়। এর পর ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে জগতি থেকে বর্তমানে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট পর্যন্ত তৈরি করা হয় রেলপথ। তবে কালের আবর্তে লাভজনক স্টেশনটি এখন পরিত্যক্ত হওয়ার পথে। অফিসিয়ালি এখানে কোনো ট্রেন থামে না। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভবনটি ধ্বংসের পথে। অবৈধ দখলকারীরা পাথর এনে স্টেশনে ব্যবসা করছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে পুরো স্টেশন। স্টেশনের সামনে আগাছায় ভরে গেছে। স্টেশনের নামে থাকা বিশাল আম বাগান ও পুকুর দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা। সরেজমিন দেখা গেছে, কিছু স্থানীয় যাত্রী দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের অপেক্ষায়। শাটল ট্রেন এখানে দুই বেলা থামে। গোয়ালন্দ থেকে পোড়াদহ গিয়ে আবার ফিরে আসে। চারদিকে পাথরে ঠাসা। স্টেশনের একটি কক্ষে মালপত্র রাখা। কক্ষগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরা। মাদক গ্রহণও চলে এখানে। জানা গেছে, জগতি স্টেশনটি প্রায় ৬ বছর ধরে বন্ধ। স্টেশনে একজন টিকিট মাস্টার, দু’জন সহকারী স্টেশন মাস্টার, ছয়জন পয়েন্টম্যান, দু’জন পোর্টার ও তিনজন গেটম্যানের পদ রয়েছে। এখন দু’জন গেটম্যান ছাড়া আর কেউ নেই। এর মধ্যে এক গেটম্যানের বাড়ি ঝিনাইদহে। তিনি এনজিওতে চাকরি করেন। তিনি শুধু বেতন নিতে আসেন। স্থানীয় এক যুবককে মাসিক ৪ হাজার টাকা বেতন দিয়ে গেটম্যানের কাজ করান। কুষ্টিয়া বড়বাজার রেলস্টেশন শহরের পুরাতন কুষ্টিয়া এলাকা যেটি একসময় মোহিনী মিলকে ঘিরে ব্যবসায়িক জোন হিসেবে গড়ে উঠেছিল। মোহিনী মিলকে ঘিরেই গড়ে ওঠে বড়বাজার স্টেশন। এখানে দু’জন স্টেশন মাস্টার বসেন। এর মধ্যে জুনিয়র স্টেশন মাস্টার মেহেদী হাসান বলেন, নামেই বড়বাজার স্টেশন। ব্রিটিশ আমলের ভবনগুলোতে বসা যায় না। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ে। একটু বৃষ্টি হলেই স্টেশনে প্রবেশের প্রধান সড়কে হাঁটুপানি জমে থাকে।শহরের মধ্যখানে অবস্থিত কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনটি। এ স্টেশনে কিছুটা প্রাণ রয়েছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে। এর পরও স্টেশনের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগারটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। যাত্রীরা এসে বাইরে বসেন। নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। স্টেশনটি দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!