রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

রোগীর চাপে বেশামাল মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল,জনবল সংকট

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২৩৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

গাংনীর প্রতিনিধিঃ ২৫০ শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা বেশি, জনবল সংকট ও দালাল দৌরত্মসহ বিভিন্ন কারণে ব্যহত হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রাম। সদিচ্ছা থাকার পরও লোকবল সংকটের কারণে সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
গাংনী উপজেলার চৌগাছা গ্রাম থেকে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে সদর হাসপাতালে এসেছেন মর্জিনা খাতুন। শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় ঠায় হয়েছে নাজমা খাতুন ও তার মেয়ের। খোলা স্যাতস্যাতে বারান্দাতে চিকিৎসা সেবা নিতে কষ্টকর হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নাজমা খাতুন। এভাবে তার সন্তান আরও বেশি অসুস’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছেন তিনি।
শয্যা সংকুলন না হওয়ায় নাজমা খাতুনের মতো আরো অনেকের ঠায় হয়েছে ওয়ার্ডের মেঝেতে এবং বারান্দাতে। এত কষ্টের সত্বেও সুস’ হওয়ার আশায় এভাবেই চিকিৎসা সেবা গ্রহন করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায় রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ওয়ার্ডের ভিতরে কিংবা ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দাতে পা ফেলার জায়গাও কম। এতে সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত চলছে ১০০ শয্যার কার্যক্রম। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে চিকিৎসা সেবা পেতে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় বেড়ে গেছে রোগীর চাপ। রোগীদের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি ও জ্বর ইত্যাদি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি শিশু ওয়ার্ডে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগেও বেড়েছে রোগীর চাপ। প্রতিদিন বহু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে। চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় রোগীর চাপ সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
এছাড়াও হাসপাতালে রয়েছে ব্যপক জনবলের সংকট। হাসপাতালটিতে ৪১ পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১৯ জন চিকিৎসাকর্মী। শূণ্য রয়েছে ২২ টি পদ। হাসপাতালটিতে ২ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), ১ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট(প্যাথলজি), ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্স (রেডিওলজি), ১ জন প্যাথলজিস্ট, ১ জন রেডিওলজিস্ট, ১ জন মেডেকেল অফিসার (রক্ত সঞ্চালন), ৩ জন ডেন্টাল সার্জন এর বিপরীতে কোন চিকিৎসাকর্মী নেই।
১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) এর বিপরীতে ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) এবং ১ সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) এর বিপরীতে ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) কর্মরত আছেন।
এছাড়া ১১ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে ৩ জন, ২ জন আর এম ও এর বিপরীতে ১ জন এবং ৭ জন ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে ৬ জন কর্মরত রয়েছেন।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. তাহাজ্জেল হোসেন জানান, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে তিনশ থেকে চারশ রোগী ভর্তি হচ্ছে। জনবলের ঘাটতি থাকায় এতরোগী সামাল দিতে আমাদের প্রচুর বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও হাসপাতাল থেকে কোন রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে না। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি প্রত্যেকটা রোগীকে উপযুক্ত সেবা দিতে।
হাসপাতালের বাইরে রোগীদের পরীক্ষা কারানোর বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, রোগীরা নিজের ইচ্ছাতেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করে আনে। হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করতে চাইলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়না। রোগীরা স্বপ্রণদিত হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করায়।
এছাড়া দালালের দৌরত্মের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে দালালরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও আমরা চেষ্ট্‌ করে যাচ্ছি হাসপাতালে দালাল চক্রকে ঠেকাতে। আমরা স’ানীয় বেসরকারী ক্লিনিকগুলোর সাথে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছি কিন’ তারা এবিষয়ে আমাদের সহযোগীতা করছে না। তাদের সহযোগিতা ছাড়া হাসপাতালকে দালাল মুক্ত করা সম্ভব না।
জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, মন্ত্রনালয়ে এ বিষয়ে অনেকবার চিঠি প্রদান করা হলেও এখনো কোন উত্তর পায়নি আমরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!