সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

জমি নাই ঘর নাই বাঁশ তলায় বসবাস বৃদ্ধ মা ও প্রতিবন্ধি ছেলের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২৪১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

গাংনী প্রতিনিধিঃজমি নাই ঘর নাই, বাঁশ তলায় বসবাস প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে বৃদ্ধ মায়ের। এমনিই এক করুন কাহিনী মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা গ্রামের বৃদ্ধ মা হালিমা খাতুন ও ৪৫ বছর বয়সি তার ছেলে খুদি।

শাঁয়েস্তা খান নামের একজন ব্যাক্তির জায়গার উপর একটি গর্তের পাশে বাঁশ তলার নিচে একটি ছোট কুড়ে ঘরে অনেক কষ্টে বসবাস করছে তারা। ঘরের পাশেই একটি গর্ত। কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে গর্ত বোঝায় হয়ে উতলে উঠছে পানি। আর কিছুদিন বৃষ্টি হলে তাদের ঐ কুড়ে ঘর ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারী ভাবে ভূমিহীনদের মাঝে জমি ও ঘর দিলেও, একটি ঘর কিংবা জমি জুটছে না তাদের কপালে। সমাজসেবা অধিদফতর কতৃক বৃদ্ধ মায়ের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকা ও প্রতিবেশিদের সাহায্যের টাকায় কোন রকম খেয়ে দিন কেটে যাচ্ছে তাদের। তারই বাস্তবতার চিত্র দেখে বোঝা যায়, কতই না কষ্টে আছে তারা।

সরাসরি তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হালিমা খাতুনের স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। তার তিন ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট খুদি। মেয়েটির বিয়ে হয়ে সে পরের বাড়ি চলে গিয়েছে। ভাইগুলো সবাই নিজের পরিবার নিয়ে ব্যাস্ত। কেউ সেভাবে তাদের মায়ের ও ছোট ভাইটার খোজ রাখেনা। ছোট ছেলেটিই তার মায়ের দেখাশুনা করতো।

কিন্তু কয়েক বছর আগে সে মাঠে কাজ করতে যেয়ে নসিমন থেকে পরে যেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধি হয়ে যায়। ঠিকমত চলাফেরাও করতে পারে না।

সারাদিন শুয়ে শুয়ে তার দিন কাটে। তার নামে ভিটা জমিসহ যেটুকু জমি ছিলো সব কিছুই বিক্রি হয়ে গিয়েছে তার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তাতেও তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।

ভিটা জমি, ঘরবাড়ি শেষ করে এখন হয়ে গেছে পুরোই নিঃস্ব। সয়সম্বল বলতে ছেলের কাছে মা আর মায়ের কাছে ছেলে ছাড়া কিছুই নাই।

পরে তাদের এই কষ্টকে কিছুটা নিবাড়ন করতে একই গ্রামের শাঁয়েস্তা খান নামের একজন ব্যাক্তি তার জায়গায় থাকার একটু ব্যাবস্থা করে দেয়।

শাঁয়েস্থা খানের দেওয়া আশ্রয়ে তারা মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছে। আর বৃদ্ধ মায়ের বয়স্ক ভাতার কার্ডের টাকায় ও প্রতিবেশিদের দেওয়া দানের টাকা দিয়ে কোনরকম খেয়ে বেচে আছেন তারা।

স্থানীয়দের মুজিবর খাঁ বলেন, এদের এত কষ্ট দেখে আমাদেরও খুব খারাপ লাগে। আমরা সকলেই গরীব বংশের সন্তান, তাই আমারও পারিনা তাদের ভালোভাবে সাহায্য করে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।

যে যেমন পারে তেমনভাবে সাহায্য করে তাদের কোনরকম আহারটা জুটিয়ে দিচ্ছে। আমরা চাই সরকারের উর্ধতন কর্তিপক্ষ তাদের প্রতি সুদৃষ্টি দিয়ে তাদের বসবাসের একটা ব্যাবস্থা করে দিক।

শাঁয়েস্তা খান বলেন, তাদের এই কষ্টের কথা জানতে পারার পর আমার জায়গায় তাদের থাকার কথা বলি। তারপর তারা সেখানে চারিদিকে বাশের ব্যাড়া দিয়ে ঘিরে মাথার উপর বস্তা দিয়ে বসবাস করছে।তাদের মত একজন অসহায়ের পাশে দাড়াতে পেরে আমি নিজেকে গর্ভবোধ মনে করি। কিন্তু এভাবে তাদের কতদিন চলবে।তবে সরকার যদি তাদের ‍পূর্নবাসন করে দিত তাহলে তাদের জন্যে খুবিই ভালো হত বলে আমি মনে করি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!