সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

স্মরণোৎসব উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী লালনমেলা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩৬৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

খালিদ হাসান রিংকু ঃসাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালনমেলা। অনুষ্ঠানমালায় থাকছে আলোচনা সভা, লালনমেলা ও লালনসঙ্গীত। লালন একাডেমির আয়োজনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ উদ্বোধনী সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে। আলোচনা শেষে লালন মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে লালনসঙ্গীত। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীসহ লালন একাডেমির শিল্পীরা। উৎসবকে ঘিরে পুরো একাডেমি চত্বরে শুরু হয়েছে খণ্ড-খণ্ড স্থানে গানের আসর। এসব গান শুনে আগত দর্শক-শ্রোতারাও নেচেগেয়ে গানের সাথে তাল মেলাচ্ছেন।
জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনকে যখন বিষিয়ে তোলা হয়েছিল, ঠিক সেই সময় সত্যের পথ ধরে, মানুষ গুরুর দীক্ষা দিতেই বাউল সম্রাট ফকির লালন সঁাঁইর আবির্ভাব ঘটে কুমারখালির ছেঁউড়িয়াতে। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। তীর্থকালে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে তার সঙ্গীরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। পরে মলম শাহর আশ্রয়ে জীবন ফিরে পাওয়ার পর সাধক সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্যে তিনি সাধক ফকিরি লাভ করেন। প্রথমে তিনি কুমারখালির ছেঁউড়িয়া গ্রামের গভীর জঙ্গলে সাধনায় নিযুক্ত হন। পরে স্থানীয় কারিকর সম্প্রদায়ের সাহায্য লাভ করেন। লালনভক্ত মলম শাহ আখড়া তৈরির জন্য ষোল বিঘা জমি দান করেন। দানকৃত ওই জমিতে ১৮২৩ সালে লালন আখড়া গড়ে ওঠে। প্রথমে সেখানে লালনের বসবাস ও সাধনার জন্য বড় খড়ের ঘর তৈরি করা হয়। সেই ঘরেই তার সাধন-ভজন চলত। ছেঁউড়িয়ার আখড়া স্থাপনের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিষ্য-ভক্তদের নিয়ে সেখানেই থাকতেন। তিনি প্রায় এক হাজার গান রচনা করে গেছেন। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ভোরে এই মরমি সাধক বাউল সম্রাট ইন্তেকাল করেন এবং তার সাধন-ভজনের ঘরের মধ্যেই তাকে সমাহিত করা হয়।
ইতোমধ্যে আত্মার টানে দেশ-বিদেশের সাধু-গুরু ও ভক্তরা দলে দলে আসতে শুরু করেছে সাঁইজির মাজারে। আখড়াবাড়ীতে আসা বাউল সাধকেরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আসন গেড়ে গেয়ে চলেছেন সাঁইজির আধ্যাত্মিক মর্মবাণী ও ভেদ তত্ত্বের গান। জমজমাট এখন লালন শাহের আখড়াবাড়ী। কুষ্টিয়া পরিণত হয়েছে উৎসবের শহরে। সুষ্ঠুভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে থাকছে র্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ। স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠানে আসা দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত অনুরাগী ও সাধু-গুরুদের চরণধুলার মুখর বাউল সম্রাটের ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ী। শহরের সব হোটেল এবং রেস্টহাউজগুলো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কোথাও কোনো সিট ফাঁকা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!