সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

কুষ্টিয়া জেলার অন্যতম একটি উপজেলা দৌলতপুর উপজেলা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৯৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

অবস্থান ও আয়তন:-

দৌলতপুর উপজেলা কুষ্টিয়া জেলার অধীনে একটি উপজেলা। দৌলতপুর উপজেলার আয়তন ৪৬১বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে বাঘা ও লালপুর, দক্ষিণে
গাংনী ও মিরপুর, পুর্বে ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ।

ইতিহাস:-

১৯৮৩ সালে দৌলতপুর থানাকে উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়। ১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর দৌলতপুরে মুক্তিবাহিনী ও পাক হানাদার বাহিনীর মধ্যে একটি লড়াই সংঘটিত হয়। এতে বহু লোক হতাহত হয়। দৌলতপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ৬টি গণকবর রয়েছে। এছাড়া এখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে একটি সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নামে ১০ টি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। শেরপুর নামক গ্রামে এই উপজেলার সব চেয়ে বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনী পরাজয় বরন করে।

ভৌগোলিক উপাত্ত নদ-নদী:-

দৌলতপুর উপজেলায় ২টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা নদী ও মাথাভাঙ্গা নদী । [২][৩] এছাড়া হিশনা-ঝাঞ্চা নদী নামের আরো একটি নদী দৌলতপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সাংষ্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ভাষা:-

দৌলতপুরে মানুষের মুখের ভাষা মিষ্টি ভাষা হিসেবে খুবই পরিচিত।

উৎসব:-

এখানে ধর্ম বর্ণ মিলে মিশে ঈদ, পুজা পালন করা হয়।

খেলাধুলা:-

খেলাধুলায় কিছুটা পিছিয়ে আছে তবে আল্লারদর্গা বাজারের পাশে একটি স্টেডিয়াম তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, এতে খেলাধুলার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক এলাকা:-

১৬১টি মৌজা ও ২৪২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত দৌলতপুর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।

ইউনিয়নের নাম ও জিও কোড:-
আদাবাড়ীয়া ০৬
এরিয়া ১৩
খলিশাকুন্ডি ৪৭
চিলমারী ২৭
দৌলতপুর ৩৩
পিয়ারপুর ৬৭
প্রাগপুর ৮১
ফিলিপনগর ৭৪
বোয়ালিয়া ২০
মথুরাপুর ৬১
মরিচা ৫৪
রামকৃষ্ণপুর ৮৮
রিফাইতপুর ৯৪
হোগলবাড়ীয়া ৪০

জনসংখ্যার উপাত্তঃ-

২০০১ সালের বাংলাদেশ আদমশুমারী অনুযায়ী দৌলতপুর উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৪৩,৯৬০ জন। এর মধ্যে ৫১.৪২ শতাংশ পুরুষ ও বাকী ৪৮.৫৮ শতাংশ নারী। উপজেলার আঠারোর্ধ জনসংখ্যা ১,৭৮,৫৩৯ জন। এখানকার সাক্ষরতার হার ৬৫.৫% (৭+ বছর বয়সী) যেখানে জাতীয় পর্যায়ে সাক্ষরতার হার ৬২.৪%। [৪]

ধর্মঃ-

মোট জনসংখ্যার ৯৯.২৮% মুসলিম ও ০.৭২% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। এখানে ১৬০ টি মসজিদ , কয়েক টি মন্দির ও ১ টি গির্জা রয়েছে।
স্বাস্থ্যঃ-

স্বাস্থ্য চিকিৎসা দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে, তবুও এখানে আছে ৫০ বেডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস, এছাড়া আছে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে কমিওনিটি ক্লিনিক।

শিক্ষাঃ-

দৌলতপুর উপজেলার সাক্ষরতার হার ৬৭%; যার মধ্যে ৭৩%% পুরুষ ও ৬১% মহিলা। এই উপজেলার রয়েছেঃ
সরকারি কলেজ ১ টি,
মহাবিদ্যালয়ঃ ১১টি,
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৪৫টি,
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১০৫টি,
বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৮২টি,
মাদ্রাসাঃ ৩৫টি,
সরকারি ভকেশনাল প্রশিক্ষন কেন্দ্রঃ ১টি

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: দৌলতপুর অনার্স কলেজ, মহিষকুন্ডি কলেজ, পিপলস কলেজ, হোসেনাবাদ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, নুরুজ্জামান বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজ, দৌলতপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ।

কৃষিঃ-

দৌলতপুর উপজেলা তামাক চাষের জন্যে বিশ্ব বিখ্যাত। এখানে প্রচুর তামাক উৎপাদন হয় যা দেশের চাহিদা পুরন করে বিদেশে রপ্তানি হয়। উপজেলার দিঘলকান্দী, আমদহ, হরিণগাছি (পাইক পাড়া), পিয়ারপুর,রিফাইতপুর এলাকায় শতকরা ৯৯.৯৯ ভাগ জমিতে তামাক চাষ হয়। এছাড়া তারাগুনি মথুরাপুর এলাকায় প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়, যা স্থানীয় চাহিদা পুরন করে ঢাকাসহ দেশের অন্যে এলাকায় পাঠানো হয়। তাছাড়া,ধান, পাট, চীনাবাদাম ও প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হয়।

অর্থনীতি শিল্প-প্রতিষ্ঠানঃ-

এই উপজেলা যেমন কৃষিতে এগিয়ে তেমনি শিল্প প্রতিষ্ঠানে অনেক উন্নত। এখানে বিশ্বাস পরিবাবের বেশ কয়েক টি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে, যেমন, নাসির টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজ, নাসির বিড়ি,নাসির সিগারেট, রকেট ম্যাচ,২ স্টার ম্যাচ, বায়জিদ অ্যাটো রাইচ মিল ইত্যাদি কল কারখানা, এখানে আনুমানিক ১ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে প্রত্যক্ষ -পরোক্ষ ভাবে। এছাড়া অনেক ছোট ছোট কল কারখানা আছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়কপথঃ-

কুষ্টিয়া শহর থেকে সরাসরি সড়ক পথে দৌলতপুরে যাওয়া যায়। প্রতি ১০ মিনিট পর পর অটোরিকশা ও কয়েকটি বাস যায়।

রেলপথঃ-

দৌলতপুরে কোন রেল পথ নেই।
দৌলতপুর বাসির দীর্ঘ দিনের দাবি এখানে রেলপথ স্থাপন করা হোক.. এছাড়াও এখানে একটি স্থলবন্দর ( প্রাগপুর ) এর জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

দৌলতপুরের কৃতী ব্যক্তিত্বঃ-

শাহ আজিজুর রহমান : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

এ্যাডভোকেট আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ এম পি তিনি ২০১৮ সালে ৩০ এ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ সংসদের ভিপি ছিলেন।

মোঃ কোরবান আলী, সাবেক খাদ্য প্রতিমন্ত্রী।

জনাব আহসানুল হক (পচামোল্লা) – জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

রেজাউল হক চৌধুরী- বাংলাদেশের
কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

সালমা আক্তার – সঙ্গীত শিল্পী।

শফি মন্ডল – জনপ্রিয় বাউল শিল্পী

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপন্রঃ-

এই উপজেলায় দর্শনীয় স্থান তেমন কিছু নেই বলেই চলে। নাসির সিগারেট ফ্যাক্টরি, পদ্মা নদীর পাড়, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন সীমান্তে পদ্মা নদীর ব্লক ঘাট, আর প্রাগপুর স্থল বন্দর দেখার মত স্থান।
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ
হোসেনাবাদ রাজবাড়ী, মহিষাকুন্ডি নীলকুঠি, রিফাইতপুর জমিদার বাড়ি।লেঃ-খালিদ হাসান রিংকু।।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!