শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

কুষ্টিয়া পদ্মায় মা ইলিশ ধরার মহোৎসব

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১৮৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

খোকসার ছয়টি গ্রাম মাছ পাচারের রুটে পরিণত, পদ্মায় জেলেদের জালে ধরা পরছে মা ইলিশ। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। চরাঞ্চলের নারী ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শহরের ক্রেতাদের কাছে এই ইলিশ মাছ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পদ্মা তীরের ছয়টি গ্রামকে ইলিশ বহনের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার ৩৫ কিলোমিটার পদ্মা নদী এলাকায় প্রতিদিন ধরা পড়ছে কয়েকশ মণ মা ইলিশ। চরে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ ৫০০ টাকা, জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩০০ টাকা দরে। চর থেকে শহরের ক্রেতাদের কাছে ইলিশ পৌঁছানোর নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে খোকসা উপজেলার পদ্মা নদীর চর অঞ্চলের গোপগ্রাম, আমলাবাড়িয়া, কুঠিপাড়া, আমবাড়িয়া, মকলুর চর ও খাসচরসহ আশপাশের গ্রামগুলোকে। নাম মাত্র পারিশ্রমিকে চরের নারী ও শিক্ষার্থীদের মাছ পাচারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মাছ বহনকারী শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, পদ্মা নদী থেকে মাছ শহরে পৌঁছাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। নদী তীরের ফাঁড়ির পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তারা মাছ কেড়ে নেয়। আবার পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকারও দিতে হয়। সোমবার ভোরে সরেজমিনে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার পদ্মা নদীর তিন কিলোমিটার চর পারি দিয়ে খাস চরের কোলের ঘাটে গিয়ে ইলিশ মাছ কেনাবেচার মহোৎসবের সত্যতা মিলেছে। একই চিত্র নদীর কোলের মানুষ পারাপারের সব ঘাটগুলোতে। জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছ কিনে অনেকের পালোনোর দৃশ্যও দেখা যায়। মাছ বিক্রি হচ্ছে নদী তীরের চরের কাশবনে, আখ আর ধানক্ষেতে। মাছ কেনাবেচার এমন দৃশ্য আগে কখনো চোখে পরেনি বলে জানান বৃদ্ধ আছির প্রামাণিক। তিনি জানান, গত দশ বছরের মধ্যে এবারই সব থেকে বেশী মাছ ধরা পড়ছে। গতকাল রোববার পদ্মা নদীর খাস চরের কোলের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোলের ঘাটে পারাপারের নৌকা এসে ভেড়ে। নৌকা থেকে নামেন চারজন যাত্রী, তাদের সঙ্গে বস্তাসহ তিনটি বাজারের ব্যাগ। প্রতিটিতে ১০ কেজির বেশি সদ্য ধরা পড়া ইলিশ মাছ। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে সরকারি অফিসের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগী পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছেন তাই তিনি মাছ কিনতে পদ্মায় এসেছেন। এ সময় দেখা হয় উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে। তার মোটরসাইকেলে পাঁচ কেজি জাটকা। অনেকটা অসহায়ের মতই বললেন- মাছ ফেলে পাচারকারী পালিয়ে গেছেন। ঘটনা যাচাই করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে অন্য তথ্য। পচাই নামে একজন ক্রেতার কাছ থেকে তিনি মাছগুলো জোর করে নিয়ে এসেছেন। মাছ পাচারের কাজে নিয়োজিত পাংশা মহাবিদ্যালয়ের এক ছাত্র নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, তারা মাছ টেনে দিতে বাধ্য হচ্ছে। নদী পারের প্রভাবশালী মহাজনের কথা না রাখলে তাদের চরে বাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তাদের দলের একজন কৃষক হজরত আলী। তিনিও একই অভিযোগ করেন। কৃষক হজরত আলী বলেন, মহাজনদের সঙ্গে স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশের সখ্যতা রয়েছে। আবার বাগে পেলে পুলিশ মাছ কেড়ে নিচ্ছে। গত শুক্রবার ভোরে জয়ন্তী হাজরা গ্রামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ২মণ ইলিশ মাছ কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। সাধারণ মানুষ মাছসহ ধরা পরলে আর রক্ষা নেই। মাছও যাবে, আবার টাকাও গুনতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!