বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

চায়ের কাপেই গাংনীর ৪ এতিমের সপ্ন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২০০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

রাব্বী আহমেদ:বাবা মাকে হারিয়ে অথয় সাগরে ভাসছে মেহেরপুরের গাংনীর কসবা গ্রামের ৪ অবুঝ শিশু। মায়ের মৃত্যু’র পর অবুঝ শিশুদের ছেড়ে তাদের বাবা নতুন বিয়ে করে সংসার পেতেছে অন্যত্র। বাবা মাকে ছাড়াই বৃদ্ধ দাদার ঘরে অনাহারে অর্ধহারে অবহেলায় মানবেতর জীবন যাপন করছে ঐ শিশুরা।

ছোট তিন ভাই বোনের আহার ও পড়াশুনার খরচ জোগাতে ভাঙ্গাচোরা চায়ের দোকান দিয়েছে শিশু আশিক (১২)। শিশু আশিক জানায়,মুস্তাকিম (১০),কুলসুম (৮) ও রিয়াজ (৬) নামের তিন ভাই বোন রয়েছে মায়ের মৃত্যু’র পর বাবা অন্যত্র বিয়ে করে তাদের ছেড়ে চলে গেছে। বৃদ্ধ দাদা দাদীর কাছে থাকে সে সহ তার ভাই বোনেরা। বৃদ্ধ দাদার অভাবের সংসার ঠিকমত চলেনা দুবেলা দুমুঠো ভাতও জোটেনা। পরে বাড়ির সাথে একটি চায়ের দোকান চালিয়ে ভাই বোনদের পড়াশুনা ও দু বেলা আহার জোটানোর চেষ্টা করছি। আশিক আরো জানান,তারা কুড়ে ঘরে থাকেন পানিতে ভিজে অনেক রাত কাটাতে হয়েছে। তাই একটি ও দোকান থাকার জন্য একটি ঘর হলেই চার ভাই বোন মিলে কিছুটা শান্তির সাথে থাকতে পারবো। অবুঝ শিশু আশিকের দাদী সালমা খাতুন জানান,৪জন শিশুকে নিয়ে তিনি মহা বিপাকে পড়েছেন। অভাব অনটনের সংসারে তাদের ঠিকমত খেতে দিতে পারিনী। শিশুরা বিভিন্ন সময়ে মায়ের জন্য কান্না করে। মা আসছে আসবে বলে অনেক সময় তাদের ঘুম পাড়িয়ে দিই।

এভাবে চলে তাদের জীবন সংগ্রাম। সরকারী ভাবে সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। শিশু রিয়াজ জানায় সকালে সে নুন (লবন) দিয়ে পানতা ভাত খাইছে। সে বলে আমাদের মা নেই তাই কেউ ভালোবাসেনা ঠিকমত খেতেও দেয়না।স্থানীয়রা জানায়,অবুঝ শিশুদের মা মনোয়ারা খাতুনের মৃত্যু’র পর তাদের বাবা ধানখোলা ইউনিয়নের কসবা গ্রামের রাশিদুল ইসলাম পুনরায় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করলেও ৪ শিশুর খোজ খবর নেয়না। শিশুদের দাদা বৃদ্ধ নালান হোসেন অনেক কষ্ট করে কোন রকম দু বেলা দু মুটো ভাত কাপড়ের জন্য রাতদিন পরিশ্রম করে। কিন্তু বয়সের ভারে নালান হোসেন ঠিকমত কোন কাজ করতেও পারেন না। বৃদ্ধ দাদার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সব স্বপ্ন শেষ করে সংসারের বোঝা মাথায় তুলে নিয়েছে কিশোর আশিক।

আশিকের দাদা লালন জানান, কি বলবো বাবা ৪ শিশুকে নিয়ে কষ্টের সংসার চলছে। বয়স হয়েছে ঠিকমত চলাচল করতে পারিনী। কি করে অবুঝ শিশুদের মুখে ভাত তুলে দেবো সেই ভাবনায় থাকতে হয়। সরকারী ভাবে যদি মাসে ৩০ কেজি চাউল,দোকান সংস্কার করে কিছু মালামাল উঠানো যেত তাহলে হইতো কষ্টটা কিছুটা হলেও লাঘব হতো। গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ও কসবা গ্রামের বাসিন্দা মো: বিপ্লব হোসেন জানান,আশিক তার ভাইবোনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের সহায়তা করার জন্য সরকারী সহ সকল মহলের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি । ধানখোলা ইউপি সদস্য কসবা গ্রামের বাসিন্দা নিলু জানান,অবুঝ শিশুদের দেয়ার মত সরকারী ভাবে বরাদ্দ কিছু নেই। তবে তাদের সহায়তার জন্য সকলেল এগিয়ে আসা উচিৎ।

ধানখোলা ইউপি চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান জানান,পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সহায়তা করার আশ্বাস দেন তিনি। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান,অবুঝ শিশুদের খোজ খবর নিয়ে সহায়তা করা হবে। আশিকের পরিবারের মোবাইল নম্বর ০১৩০৮-৯০২৩৪০।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!