শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

কুষ্টিয়ায় এবার ড্যান্ডি সেবনে জড়াচ্ছে পথশিশুরা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩৩৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল সেবনে বাদ নেই বয়স্ক নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা। তবে এসব সেবনে ছন্নছড়া পথশিশুদের কথা তেমন শোনা যায়নি। এবার এসব পথশিশুরাও জড়িয়ে পড়েছে অন্যরকম মাদক ড্যান্ডি সেবনে।
বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজার লৌহাপট্রি, রেল ও বাস স্টেশন এলাকায় এখন প্রতিদিন দেখা মিলছে তাদের। ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সের এই পথশিশুরা পলিথিন ব্যাগে নাক-মুখ ডুবিয়ে কি যেন শুঁকছে। তাতে সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক দেখা গেছে এদের। নজর দিতেই দেখা যায়, পলিথিনের মধ্যে হালকা হলুদ রংয়ের কিছু একটা আছে। অথচ এদের প্রতি কোন নজর নেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের।
নাক-মুখ ডুবিয়ে শুকার সময় এসব কি জানতে চাইলে রেলপট্রি এলাকার এক পথশিশু আড়ষ্ট চোখে জানায়, এটা ড্যান্ডি, নেশা। একবার খাইলে সারাদিন মাথা ঝিম ঝিম করে, কারও কথা মনে পড়ে না। মনের দুঃখও থাকে না। আর এর গন্ধ ভালো লাগে, তাই বারবার টানি। জানতে চাইলে তার নাম শরীফ (৯) বলে জানায়। এর কিছুদূরে দুই মেয়েসহ ৫ জনে মিলে পলিথিন ব্যাগে নাক ডুবিয়ে নেশা গ্রহণ করতে দেখা যায়। কাছে যেতেই ৩ ছেলে পালিয়ে যায়। দুই মেয়ের মধ্যে একজনের নাম মায়া (১৩) (ছদ্মনাম), অপরজনের নাম মিলি (১১) (ছদ্মনাম)।
তাদের দেয়া তথ্যমতে, রেলস্টেশনে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, ৩-৪ জন করে তিনটি পথশিশুর দল ড্যান্ডি সেবন করছে, আর মাথায় হাত দিয়ে ঝিম ধরে বসে আছে। ছবি তুলতে চাইলেই সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে তারা।
পথশিশুরা জানায়, ড্যান্ডি একধরনের নেশা। মাত্র ২০-৩০ টাকায় কেনা যায়। সারাদিন প্লাস্টিক বা লোহা জাতীয় পূরণো জিনিস কুড়িয়ে আগে খাবার কিনে খেতাম। এখন অনেক সময় খাবার না খেয়ে ড্যান্ডি কিনে খাই। এটি খাইলে ক্ষুধার কথাও মনে থাকে না।
জানা যায, নেশার এই উপকরণটি হচ্ছে ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ বা ড্যান্ড্রাইট আঠা। নেশাগ্রস্ত পথশিশুদের কাছে এটি ড্যান্ডি নামেই বেশি পরিচিত। ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ নামক আঠালো বস্তুটি (গাম) দিয়ে এই মাদক তৈরি করে মাদক ব্যবসায়ীরা।
ড্যান্ড্রাইট অ্যাডহেসিভ টিউবে বা কৌটায় দুভাবে পাওয়া যায়। প্রতিটি টিউবের দাম ১৫০-২০০ টাকা, কৌটার দাম ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। এগুলো সাধারণত হার্ডওয়ারের দোকানে বিক্রি হয়। দাম বেশি হওয়ায় আসক্ত শিশুরা কৌটা কিংবা টিউব কিনতে পারে না। ফলে একশ্রেণীর মাদক বিক্রেতা ২০-৩০ টাকার বিনিময়ে অল্প বিক্রী করে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডা. খাইরুল বলেন, নাকে-মুখে ঘনঘন এটির শ্বাস নিলে মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে। পাশাপাশি আসক্তি তৈরি হয়। তবে আঠার গ্যাস ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। নাকের ভেতরে ঘা হয়ে যায়। এতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ মাদকে মানসিক এবং শারীরিক উভয় ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যেহেতু শিশুরা এটা গ্রহণ করে, ফলে এর প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হবে।
ছন্নছড়া পথশিশুদের কাছে এটি যখন নেশা এবং চিকিৎসকের মতে, এটির প্রতিক্রিয়া যখন ভয়াবহ তখনো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে এটি মাদক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া সুত্রে জানা যায় এটি প্রচলিত কোনো মাদক নয়। ড্যান্ডি বা আঠা জাতীয় দ্রব্যগুলো নিষিদ্ধ ও মাদক আইনে না পরায় এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তবে এটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মত পোষণ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!