বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৪ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

মিরপুর ৮ ডিসেম্বর’৭১ মিরপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিজয় র‍্যালী ও আলোচনা সভা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল উদ্বোধন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৭৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,মিরপুর উপজেলা কমান্ডের আয়োজনে ৮ ডিসেম্বর’৭১ মিরপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে মিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিজয় র‍্যালী ও আলোচনা সভা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল উদ্বোধন করেন জনাব হারুনুর রশীদ, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচিত্র পরিচালক এবং মোঃ কামারুল আরেফিন, চেয়ারম্যান মিরপুর উপজেলা পরিষদ। জনাব সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল করিম এর সভাপতিত্বে উপস্তিত ছিলেন আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, ভাইস চেয়ারম্যান, মর্জিনা খাতুন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, হাজ্বী এনামুল হক পৌর মেয়র, আবুল কালাম, মিরপুর অফিসার ইনর্চাজ, আফতাব উদ্দিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
আজ বাঙ্গালী ও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে বহু ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে জেলার মিরপুর থানা পাকহানাদার মুক্ত হয়েছিল। সে থেকে এ দিনটি মিরপুর থানা পাকহানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান পায়। ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আফতাব উদ্দিন খানের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তিকামী ছাত্রজনতা বর্তমান মাহামুদা চৌধুরী কলেজ রোডস্থ পোষ্ট অফিস সংলগ্ন মসজিদে শপথ গ্রহণ করেন। ৩০ মার্চ শেষ রাতে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর জিলা স্কুলে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শুরু হলে পাক বাহিনী নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে যশোর সেনানিবাসের সাহায্য চায়। কিন্তু সেখান থেকে কোন সাহায্য না পাঠানোর সংকেত দিলে হানাদার বাহিনী রাতের অন্ধকারে তিনটি গাড়িতে করে গুলি বর্ষণ করতে করতে যশোর সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় পাক সৈন্যরা ২টি গাড়ী ঝিনাইদহ জেলার গাড়াগঞ্জের কাছে রাস্তায় কেটে তৈরী মুক্তিবাহিনীর ফাঁদে পড়ে যায় এবং ওই এলাকার ক্ষিপ্ত মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত হয়। পাকবাহিনীর অপর ৬ জন সদস্য ভোরে জিলা স্কুল থেকে মিরপুরের দিকে পালিয়ে আসতে থাকে। প্রথম তারা মশান বাজার সংলগ্ন মাঠের মধ্যে তীব্র প্রতিরোধের মধ্যে পড়ে কিন্তু পাক সৈন্যদের গুলিতে মশানের ডাঃ আব্দুর রশিদ হিলম্যান, গোলাপ শেখ, আশরাফ আলী ও সোনাউল্লাহ শহীদ হন। মিরপুর থানার কামারপাড়ায় বিছিন্ন ৩ পাকহানাদারের সাথে স্থানীয় মুক্তিকামীদের আবারও যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিরপুর থানার সিপাহী মহিউদ্দিন শহীদ হন। অপর পক্ষে পাকবাহিনীর ওই ৩ সদস্যও নিহত হয়। উল্লেখ্য শহীদ সিপাহী মহিউদ্দিনের কবরের পাশে মিরপুর উপজেলার শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর ভোরে ই-৯ এর গ্রুপ কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান ১শ’ ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মিরপুর থানায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গান স্যালুটের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। এর পর ৬৫ জন পাকহানাদার বাহিনীর দোসর ও রাজাকার পাহাড়পুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পন করে। মিরপুর হানাদার মুক্ত হওয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিভিন্ন বয়সের হাজারও নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!