রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

কুষ্টিয়ায় ঔষধের দোকানে মিলছে মাদক!

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৬৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

হাশেম আলী(৩০) ছদ্দ নাম।চায়ের দোকানের কর্মচারী।আগে হেরোইন ও গাঁজা তে আসক্ত ছিল।এখন ট্যাপেন্টা খায়।নেশার পিছনে দিনে ২শত টাকা ব্যায় হয়।এসব কারনে দুই সন্তানসহ বউ চলে গেছে।বর্তমানে কি ধরনের নেশা করছে জানতে চাইলে সে জানায় হেরোইন ইয়াবা গাঁজার চাইতে এখন সহজেই পাওয়া যায় ট্যাপেন্টা ট্যবলেট। ওটা দিয়েই নেশা করি।রাংতা এর উপরে ট্যাপেন্টা রেখে তাপ দিয়ে হেরোইনের মতই গ্রহন করি।হাসেম আলীর ভাষ্যমতে অধিকাংশই পানি দিয়ে গিলে খায়।আমি তাপ দিয়ে খেয়েই মজা পাই।আর ২০ টাকার ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট এখন যেকোন ফার্মেসী তে ৬০/৭০টাকা দিলেই পাওয়া যায়। এছাড়াও ঘুমের ঔষধ ও কাশির সিরাপ সহজলভ্য হওয়ায় নেশা হিসেবে ব্যবহার করছে কুষ্টিয়ার টিন এজ বয়সের বাচ্চরা।প্রাথমিক পর্যায়ে টিন এজ বয়সী এসব বাচ্চারা পারিবারিক অশান্তি,ব্যর্থতা, সঙ্গদোষ অথবা কৌতুহল বশত এসব ড্রাগ গ্রহন করে থাকে।এক পর্যায়ে আসক্তি চলে আসে।ওরু হয় মাদক জীবনের হাতে খড়ি। সহজলভ্য এসব নেশার ফাঁদে পড়ে আর বের হতে পারেনা ।প্রসাশনের নজরদারির অভাব ও কুষ্টিয়ার কিছু অসাধু ফার্মেসী দোকানদারদের কারনে খুব দ্রুত টিন এজ শিশু কিশোরসহ মাদকাসক্তদের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে এই ড্রাগ।ট্যাপেন্টা ট্যাবলেটটির জেনেরিক নাম ট্যাপেন্টা ডল হাইড্রোক্লোরাইড।এটি সাধারণত অপারেশন পরবর্তি ব্যথানাশক ঔষধ হিসেবে দিয়ে থাকে ডাক্তাররা।দেশের ৫টি ঔষধ কোম্পানি এটি উৎপাদন করে ।
কুষ্টিয়ার সাবেক ড্রাগ সুপার ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালের ঔষধ আইন অনুযায়ী মাত্র ৩৯টি ঔষধ প্রেসসিকশন ছাড়া বিক্রয় যোগ্য। ট্যাপেন্টা, ঘুমের ঔষধ, ডেসপোটেন, সিনামিন এগুলি প্রেসসিকশন ছাড়া বিক্রয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া কিছু ঔষধ প্রেসসিকশন ছাড়া বিক্রয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের আইনের মধ্যে পড়ে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আবু হাসানুজ্জামান বলেন, ট্যাপেন্টা-১০০ একটি ব্যাথা নিরোধক ঔষধ। এটি খেলে ঘুমের ভাব আসে। এটি সাধারণত অপারেশন পরবর্তি সময়ে দেওয়া হয়। এ ঔষধ সেন্টাল নার্ভাস সিষ্টেমের উপরে কাজ করে। অতিরিক্ত ব্যাবহারে স্মৃতি শক্তি হারানোসহ ব্রেইনের মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে।
ইতোমধ্যে অবৈধ ভাবে ট্যাপেন্টা বিক্রির দায়ে ভ্রম্যমান আদালতে জরিমানা হলেও থেমে নেই ব্যবসা।এমন কি গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে এই ট্যাবলেট।এদিকে পিছিয়ে নেই হোমিও ফার্মেসীগুলো।গত ১২ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া শহরে বন্ধুর জন্মদিন উৎসবে রাফি হোমিও হল থেকে স্পিরিট কিনে পান করে ৩জন তরুন মারা যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
বংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি কুষ্টিয়ার সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল আলম টুকু বলেন, সম্প্রতি ঔষধ প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া অন্য কোথাও ট্যাপেন্টা ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ।এ সংক্রান্ত চিঠি আমাদের হাতে এসেছে।যদি কোন ফার্মেসী অবৈধ ভাবে ট্যাপেন্টা সংগ্রহ করে ব্যবসা করে এর দায় সমিতি নিবে না।কুষ্টিয়ার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন সরকারী নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!