রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৫ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

কুষ্টিয়ায় ৭০টি নছিমন কারখানা বন্ধে প্রায় ৫হাজার শ্রমিক বেকার অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার আশংখ্যা সূধীমহলের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০
  • ৮২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সব ধরনের অবৈধ যান তৈরির কারখানা বন্ধের মহতি উদ্যোগ নিয়েছে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। পুলিশ সূত্র জানিয়েছিল, জেলায় ৭০টি কারখানা খুঁজে পেয়েছেন। এসব কারখানা মালিকের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত এক মাস আগে জেলার সব নছিমন, করিমন তৈরির কারখানা মালিককে ডেকে সময় বেঁধে দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। না মানলে কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাসহ জরিমানা এমনকি কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল। এক মাস অতিবাহত হওয়ার পর গত রবিবার কুষ্টিয়ার প্রায় ৭০টি কারখানায় তালা মেরে বন্দ করে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকায় ৪০টি কারখানা তালা মেরে বন্দ করে দেয় পুলিশ প্রশাসন। পুরো জেলায় রয়েছে প্রায় শতাধিক কারখানা, এসব কারখানায় প্রতি মাসে শত শত নছিমন, করিমন ও ভটভটি তৈরি হত। চীন থেকে শ্যালো ইঞ্জিন এনে নিজেদের মতো যানবাহন তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। সুত্র মতে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় শতাধিক কারখানায় প্রায় ৫হাজার শ্রমিক কাজ করে পরিবার পরিজন পরিজন নিয়ে প্রায় ৫০ হাজারের বেশী গরীব দুখীদের জীবন জীবিকা চলছিল ঐ সকল কারখানায় কাজ করে। হঠাৎ করে গত রবিবার তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকারাচ্ছন্ন মেঘ, ঢেকে যায় তাদের জীবন জীবিকার মূল হাতিয়ার।
এ বিষয়ে সরেজমিনে গত সোম ও মঙ্গলবার দু’দিন ধরে কুষ্টিয়া সদরের ভাদালিয়া, শিমুলিয়া কাথুলিয়া, বটতৈল, আইলচারা, বাক্সব্রিজ, বারখাদা ত্রিমোহনী, স্বস্তিপুর, আলামপুর, বালিয়াপাড়া, রাতুলপাড়া, ভবানীপুর, বেলঘোরিয়া, চরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে অনেকগুলো বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম, পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে যেমনটি শোক বিরাজ করে ঠিক তেমনটিই বিরাজ করছে প্রতিটা বাড়ীতে। ঐ সকল গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিবেদককে বলেন, ভাদালিয়া বাজারে ৪০টি কারখানা বন্দ করার ফলে অত্র অঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার যুবকরা আজ বেকার হয়ে পড়েছে, তারা কারখানায় কাজ করে দিন আনে দিন খায়, একদিন কাজ না করলে পরিবারের চুলা জ্বলেনা। এখন ঐ সব যুবকেরা কোন কাজ না পেলে তারা অসৎ পথে নেবে যাবে বলে আশংখ্যা করছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসায়ীসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার কথা জানান।
উক্ত এলাকার বেশ কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুধু কুষ্টিয়া জেলাতেই এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কেন ? বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রতিটা জেলাতেই এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু যে কুষ্টিয়া জেলাতেই নছিমন, করিমন, আলমসাধু, আলগামন তৈরী হচ্ছে তা না, এখন দেশের ৬৪টা জেলাতেই তৈরী হচ্ছে এই সকল অবৈধ যান। কুষ্টিয়া জেলার চেয়ে সবচেয়ে বেশী তৈরী হচ্ছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলাতে সেখানে এখনো অবাধে তৈরী হচ্ছে আরও ট্রাক সাইজের বড়-বড় অবৈধ যানবাহন, আর এখানে তৈরী হচ্ছে ছোট-ছোট যানবাহন।
কারখানা বন্দের বিষয় নিয়ে ভাদালিয়া বাজারের চায়ের দোকানে বসে থাকা রহিম, জব্বার, মিন্টু, রহমত, ঠান্টু, মিজানসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বললে তারা অশ্র“শিক্ত কন্ঠে বলেন, কারখানাগুলা চালু না হলে আমাদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে নইলে কোন খারাপ কাজ বেঁছে নিতে হবে আমাদের।
তবে একসময় দেশটা অনেক পিছিয়ে ছিল, সে সময় মাঠের ধান থেকে শুরু করে সকল অর্থকারী ফসল কেটে গরুর গাড়ী, মহিষের গাড়ী, ঘোড়ার গাড়ীতে করে মাঠের ধান বাড়ীতে আনত, এখন ঐ সকল গাড়ী বিলীন হয়ে গেছে, চলে এসেছে আধুনিক যুগ। এই যুগে নছিমন করিমন দিয়ে মাঠের ফসল বাড়ীতে আনে কৃষকরা। আবার ওগুলো গরু মহিষ দিয়ে এখন আর মাড়াই হয় না, এখন মাড়াই হয় মেশিন দিয়ে। অন্যদিকে এই নছিমন করিমনই ভোটের সময় ব্যবহার করছে দেশের প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর। আসামী ধরতে দ্রুত যাওয়ার জন্যও ব্যবহার হচ্ছে নছিমন করিমন। এক কথায় সর্ব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এই সকল যান গুলো দিয়ে। যেমন ইট, কাঠ, পাথর, বালু, রড, সিমেন্ট, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি জেলায় গড়ে ওঠা প্রায় ২৫০ ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের মাটি ও কাঠ সরবরাহ এবং ইমারত নির্মাণে তৈরি ইট সরবরাহে অবৈধ এই যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভাদালিয়া বাজারের সবচেয়ে বড় যানবাহন তৈরির কারখানার মালিক আব্দুর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সব ধরনের অবৈধ যান তৈরির কারখানা বন্ধের মহতি উদ্যোগ নিয়েছে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, তার এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। তিনি আরও বলেণ, জেলায় সব মিলিয়ে ছোট-বড় শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা পুলিশ প্রশাসন বন্দ করে দিয়ে জেলায় বেকারের সংখ্যা বেড়ে গেল, তারা আবার নানা অপকর্মে জড়িয়ে না পড়ে এই চিন্তাটা আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কারখানা বন্দ করে দিলে আমার কোন সমস্যা নেই, আমার অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোতো আমার বৈধ প্রতিষ্ঠান। তবে কিছু-কিছু ছোট কারখানা মালিকরা পড়বে চরম বিপাকে তারা বিভিন্ন যায়গা থেকে লোন করে কারখানা চালাচ্ছিল। তাদের কারখানায়ও কিছু শ্রমিকও কাজ করছিল।
কারখানার শ্রমিকরা প্রতিবেদকের কাছে অশ্র“শিক্ত চোখে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, কুষ্টিয়া প্রশাসন আমাদেরকে সৎ পথে জীবন যাপন করতে দিলনা যখন, তখন আমাদেরকে অসৎ পথে অর্থ উপার্জন করে পরিবারকে বাঁচাতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!