শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমনের বিরুদ্ধে যুবককে মারধরের অভিযোগ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০
  • ২৯৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়া০৫/০২/২০২০ইংঃ পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে বিপ্রদাস কুমার ঘোষ নামে এক যুবককে পূর্ব শত্রুতার কারনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিপ্রদাস একই একই ইউনিয়নের পিতাম্বরবসি গ্রামের বিকাশ চন্দ্র ঘোষের ছেলে। ঘটনা সম্পর্কে বিপ্রদাস বলেন বিগত ২ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সন্ধা ৬.৩০ টা নাগাদ তিনি পান্টি বাজার থেকে মটরসাইকেল যোগে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। এসময় পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিউর রহমান সুমনের নেতৃত্বে মিজান, আলিম সহ মোট ৪ জন বিপ্রদাসের মটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় তারা সুমনের নির্দেশে বিপ্রদাসকে টেনে হিঁচড়ে পান্টি হাইস্কুল মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আরও ১০-১৫ জন এসে উপস্থিত হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সুমনের নেতৃত্বে বিপ্রদাসকে মাটিতে ফেলে সবাই মিলে বেধরক মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তার চিৎকারে সামিউর রহমান সুমনের বড় ভাই মামুন, পল্লব কুমার ঘোষ, বিকাশ চন্দ্র ঘোষ, সুজিত কুমার ঘোষ সহ পান্টি বাজারের আরও অনেকেই মাঠে এসে উপস্থিত হয় এবং বিপ্রদাসকে উদ্ধার করে কুমারখলী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর বিপ্রদাস কুমারখালী হসপিটাল থেকে কুষ্টিয়াতে বোনের বাড়িতে চলে আসে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিগত ৩ ফেব্রুয়ারি বিপ্রদাস কুমারখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। এব্যাপারে বিপ্রদাস জানান বিগত উপজেলা নির্বাচনের দিন সাতেক পরে সামিউর রহমান সুমন পান্টি বাজারে বিপ্রদাসকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরে বিপ্রদাসের বাড়ির পাশে আওআমীলীগের উঠান বৈঠকে সুমন বিপ্রদাসের কাকিমা মুক্তা রানী ঘোষকে গালিগালাজ করে। এরপর বিপ্রদাস স্থানীয় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জকে এসএমএস এর মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করেন। বিপ্রদাস জানান এই ঘটনা সম্পর্কে এমপিকে জানানোর জন্যই আর উপর রাগ সুমনের। এদিকে ২ তারিখের ঘটনার ব্যাপারে বিপ্রদাসের বাবা বিকাশ চন্দ্র ঘোষ প্রতিবেদককে বলেন “ আমার ছেলে বিপ্রদাসকে সেদিন মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ধরে নিয়ে গিয়েছিল সুমন। ঠিক সময় মতন যদি লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার না করত তাহলে আমার ছেলে আজ বেঁচে বাড়ি ফিরত না”। বিকাশ ঘোষ আরও বলেন এই ঘটনার দোষিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ এখনও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন সুষ্ঠ বিচার না পেলে আমাদের দেশ থেকে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তিনি জানান তিনি এবং তার পরিবার নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছেন। এব্যাপারে তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্শন করেন। বিপ্রদাসের মা দূর্গা রানী ঘোষ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন। তিনি বলেন আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তারা গ্রামেই নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে কখন আবার তারা তাকে ধরে নিয়ে যাবে সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। এব্যাপারে জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও কুষ্টিয়া বারের সভাপতি ও বিজ্ঞ পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী বলেন “পরিবারটি যদি সময় মতো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনির সহয়তা পেত তাহলে তারা নিরাপত্তা হিনতায় ভুগতো না। তিনি আরও বলেন ৩ তারিখে অভিযোগ দায়েরের পরেও মামলা হিসেবে নথিভূক্ত না হওয়া দুঃখ জনক। ঘটনায় অভিযুক্ত পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন বলেন এমন কোন ঘটনায় সেদিন ঘটেনি। তিনি অভিযোগ করেন তাঁর রাজনৈতিক পতিপক্ষ হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন কথা রটাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম’কে ফোন দিলে তিনি বলেন “অভিযোগটির তদন্ত কি পর্যায়ে রয়েছে সেটা আমার জানা নেই”। তবে এই বিষয়ে ৩ তারিখে অভিযোগ পেলেও এখনও কাউকে আটক করা হয়নি এবং মামলাও নথিভুক্ত হয়নি। এদিকে ঘটনা টি নিয়ে পিতাম্বরবসী গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উল্লেখ্য পিতাম্বরবসী গ্রামে ৮০ ঘর হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!