শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

রাণীশংকৈলে গাছে গাছে আমের মুকুল, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০
  • ১৪৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

রানীশংকৈল প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে আমবাগানগুলো মুকুল মুকুলে ছেয়ে গেছে হাঁসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। হলুদে হলুদে ভরে উঠেছে সবুজ সমারোহ বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ জানান দিচ্ছে, আসন্ন মৌসুমে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা পাবে বলে আশাবাদী ব্যাবসায়ীরা ।

ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার মাটি তুলনামুলক উঁচু এবং চতুর্দিকে সমান মাটির প্রকৃতি বেলে ও দোআঁশ। এসব জমিতে কয়েক বছর আগেও চাষীরা গম, ধান ,পাট ইত্যাদি আবাদ করতেন বেশি বেশি। কিন্তু ধান গম আবাদ করে তেমন একটা লাভবান হওয়া যায় না। তাই ঠাকুরগাঁও জেলার কয়েকটি উপজেলার চাষিরা আম বাগান গর্তে উরু করেছে বালিয়াডাঙ্গী,পীরগন্জ, রানীশংকৈল এলাকায় গত ১০ বছরে ব্যাপক আমবাগান গড়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও জেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ হাজার বাগান গড়ে উঠেছে। ওইসব এলাকার রাস্তা দিয়ে যেতেই এখন অসংখ্য আমবাগান চোখে পড়ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলার বিখ্যাত আমের নাম সূর্যপুরী ও গোপাল ভোগ হিমসাগর এটি সাধারণত বালিযাডাঙ্গী এলাকায় চাষ হয়। বিশেষ করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী এলাকায় রয়েছে বিশাল একটি আমগাছ। প্রায় ২ বিঘা জমি জুড়ে গড়ে উঠা ওই আমগাছকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভীড় জমে ওঠে প্রায় প্রতিদিনই।এইগাছের আমটি সূর্যপুরী। এ আম ইতোমধ্যে সকলের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। পাতলা আটি আর সুমিষ্ট গন্ধ যেন মন কেড়ে নেয়।

এছাড়াও একবিঘা জমিতে অন্যান্য ফসল উৎপাদন করে যে লাভ হয় আমবাগান করে তার চাইতে কয়েকগুণ লাভবান হওয়া যায় বলে জানিয়েছে রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষক সাইফুর রহমান কয়েক বিঘা জমিতে আমের বাগান করেছেন তিনি। গতবছর তিনি তার বাগান থেকে সারাদেশে বিষমুক্ত আম সরবরাহ করেন। তার মতো অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিক ভাবে আম্রপালি আমের বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এসব বাগানে গাছ লাগানোর ২/৩ বছরের মধ্যেই আম পাওয়া যায়। লাগাতার ফল দেয় ১০/১২ বছর। ফলনও হয় ব্যাপক। শুধু আম্রপালি ছাড়াও এ এলাকায় হাড়িভাংগা, গোপাল ভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি ও হিমসাগর আমের আবাদ হচ্ছে। বাগানগুলোতে আম গাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে গম আমন ধান এবং অন্যান্য ফসলেরও আবাদ করছেন চাষীরা। ইতোমধ্যে বাগানগুলোতে ব্যাপক মুকুল এসেছে। মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছগুলো। হলুদের আভা ধারণ করেছে আম বাগানগুলো।

অনেকে বাগান করে আগাম বিক্রি করে দিচ্ছেন ফল ব্যবসায়ীদের কাছে। বড় বড় অনেক আম বাগান দুই-তিন বছর কিংবা তার অধিক সময়ের জন্য অগ্রিম বিক্রি হয়ে যায়। কিছু বাগান বিক্রি হয় মুকুল দেখে। আবার কিছু বাগান বিক্রি হয় ফল মাঝারী আকারের হলে। বাগানের পাশ দিয়ে হাঁটলেই মুকুলের ঘ্রানে মন প্রাণ ভরে উঠে।

রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ নং নন্দুয়ার ইউনিয়নের আম বাগান ব্যবসায়ী এরশাদ আলী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় এবার ব্যাপক মুকুল দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা বলছেন, মুকুল দেখে আশা করা যায় এবার আমের ব্যাপক ফলন হবে। শিলাবৃষ্টি বা ঝড়ঝঞ্জা না হলে ব্যাপক আমের ফলন পাওয়া যাবে বলে জানান বাগান মালিকেরা।

একই এলাকার আম বাগান মালিক খলিলুর রহমান ও বেলাল উদ্দীন জানান, গত বছর ২৭ বিঘার বাগানে ৫৩ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করেছিলাম। এ বছর যে হারে মুকুল এসেছে, তাতে ৭০/৮০ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করা যাবে।

কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম জানান, ছত্রাকে যাতে মুকুল নষ্ট না হয় সেজন্য নাশক হিসেবে ইমাডোক্লোরিড গ্রুপের দানাদার প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম ও সাইপারম্যাক্সিন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলি লিটার মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মুকুল গুটিতে পরিণত হওয়ার সময় একই মাত্রায় দ্বিতীয়বার স্প্রে করতে হবে।

রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেব নাথ জানান, রাণীশংকৈল উপজেলার সূর্যপুরী আম সারাদেশে সুনাম রয়েছে। এখানকার আমে পোকা থাকে না, এটা এখানকার বিশেষ বৈশিষ্ট। আমের আকার দেখতে ছোট হলেও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। আবহাওয়া ভাল থাকলে এবং কালবৈশাখী বা ঝড়ঝঞ্জা না হলে ব্যাপক ফলন আশা করা যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!