মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৪ অপরাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

ঝিনাইদহে কিস্তি আদায়ে থেমে নেই সুদখোর ও এনজিওরা!

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০
  • ৯৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ঝিনাইদহের নিম্ন আয়ের ঘারবন্দি মানুষ যখন জীবনযাপনে হাসফাস করছে তখন সুদখোর ও কতিপয় এনজিও ঋন আদায়ে বেপরোয়া হয়েউঠেছে। তারা জেলা প্রশাসকের অনুরোধ উপেক্ষা করে গায়ের জোরে গ্রামে গ্রামেপাড়া মহল্লায় গিয়ে জোর পুর্বক কিস্তি আদায় করতে দেখা গেছে। গতকাল বুধবারসিও এবং সৃজনীসহ প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান কিস্তি আদায় করেছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা শহরে বিভিন্ন সুদখোররা বিশেষ কৌশলে তাদের টাকা আদায় অব্যাহত রেখেছে। অনেকে সুদখোরদের অত্যাচারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। শহরের একজন সুদখোর মিষ্টি ব্যবসায়ী গাঢাকা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় ব্র্যাক, আশা, গ্রামীন, সিও, সৃজনী, এইড, এডাব, সাঁকো, পল্লী মঙ্গল ও ব্যুরোসহ বিভিন্ন এনজিও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের ঋন দিয়ে থাকেন। দেশের এই দুযোর্গ মুহুর্তে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ৪ দিন আগেই এনজিওদের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। ডিসির এই অনুরোধে অনেকে বিলম্বে সাড়া দিয়ে কিস্তি আদায় বন্ধ রাখলেও ঝিনাইদহের সিও এবং সৃজনী গতকাল বুধবার পর্যন্ত কিস্তি আদায় করেছে। হলিধানী এলাকার এক প্রবাসি জানান, তার কাছে এনজিওরা ঘন ঘন ফোন করে কিস্তি প্রদানের জন্য। এক পর্যায়ে তিনি আত্নহত্যার হুমকী দেন। এরপর দুটি এনজিও চিঠি দিয়ে হলিধানী এলাকায় কিস্তি আদায় বন্ধ করেন। তবে সিও এনজিও বুধবারে কিস্তির টাকা তুলেছেন বলেও ওই প্রবাসি অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার পৌরসভার শিকারপুর গ্রামে কিস্তি তুলতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন সিও এনজিও কর্মীরা। এ সময় সংবাদ কমর্ীরা তাদের কাছে জেলাপ্রশাসকের অনুরোধের কথা জানতে চাইলে মহিলা ওই মাঠকর্মী জানান, সিও অফিসে আমরা যুদ্ধ করেছি ফিল্ডে না আসার জন্য। কিন্তু আমাদের জোর করে পাঠানো হয়েছে।সৃজনীর কর্মীদেরও একই কথা। তাদের ভাষ্য ২৬ মার্চ থেকে আমাদের কিস্তি আদায় বন্ধ হবে। সরকারী ভাবে এটাই বলা হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহেরবিভিন্ন স্থানে দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। লোকজন চলাচলও সীমিত। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষদের কর্মসংস্থান কমে গেছে। এতে দিনমজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় নেই।এমন পরিস্থিতিতে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম মানুষকে মহাদুভোর্গে ফেলে দিচ্ছে। এমনিতেই খেটে খাওয়া মানুষেরা হয়ে পড়ছেন বেকার। এমতাবস্থায় এনজিওরসাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তির টাকা জোগাড় দূরের কথা খাবার কেনার টাকা জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ঝিনাইদহে বৈধ অবৈধ শতাধিক এনজিওনিয়মিত ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব এনজিও থেকে হহাজার হাজার মানুষ ঋণ সংগ্রহ করেছেন। এতে ঋণগ্রহীতারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগীরাজানায়, কিস্তির টাকা না দিলে কর্মীরা আদায়ের জন্য ঘরের বারাান্দায় বসে থাকেন, গালমন্দ করেন, হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে সিও এনজিও’র নিবার্হী পরিচালক শামছুলইসলাম গনমাধ্যম কমর্ীদের জানান, শুধু আমি একা নয়, ঝিনাইদহে প্রায় ৬০টি এনজিও কিস্তির টাকা আদায় করেছে। সরকার আমাদের চিঠি দিয়েছে। সেমোতাবেক আমরা ২৬ মার্চের পর থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কিস্তির টাকা তুলবো না।একই কথা জানান সৃজনীর নিবার্হী পরিচালক হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, সরকারীঘোষনা মেতাবেক ২৬ মার্চের পর থেকে কিস্তির টাকা উঠাবো না। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা সমাজসেবা অফিসের ডিডি আব্দুল লতিফ শেখ জানান, তাদের কাছেক্রেডিট প্রগাম করে এমন এনজিওর কোন তালিকা নেই। তাই কিছু করতে পারছেন না। তবে অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের চিহ্নিত কিছু এনজিওর অনুষ্ঠানে সমাজসেবা, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকতার্রা নিয়মিত আতিথিয়তা গ্রহন করে থাকেন বলে কতিপয় এনজিও আইনের প্রতি কোন তোয়াক্কা না করে ঋন আদায়ে জবরদস্তি করে থাকেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!