শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

করোনাভাইরাসে নয়, না খেয়েই মইরা যামু আমরা – আখাউড়ার অন্ধপল্লীর মানুষ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০
  • ২৯৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার অন্ধপল্লীর মানুষগুলোর একটাই কথা ‘ট্রেন বন্ধ থাকলে আমরা খামু কেমনে? বউ-বাচ্চারে কী খাওয়ামু? ভিক্ষা করতে গ্রামে বের হলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে মানুষ ভিক্ষা না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আমাদেরকে করোনাভাইরাসে মরতে অইবো না। কিছুদিন এমনভাবে চললে আমরা এমনেই না খাইয়া মইরা যামু’ – বলেন আখাউড়া উপজেলা শাখার জাতীয় অন্ধ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মুকবুল মিয়া (৬০)।জানাগেছে,উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধনগর গ্রামের অন্ধ পল্লীর ৪০টি পরিবারে ছেলে-বুড়ো, শিশু ও মহিলা নিয়ে অন্তত শতাধিক অন্ধ সুবিধাবঞ্চিত ভিক্ষুক আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ট্রেনযাত্রীদের ওপর নির্ভরশীল।ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তারা এখন গৃহবন্দী হয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।অন্ধ পল্লীর রমজান আলী, ওলি আহম্মদ, হোসেন আলী, লাভলী আক্তার, জোহরা বেগম, হাসিনা আক্তার, নার্গিস বেগমসহ ক্ষুধার্ত ভিক্ষুকরা জানান, ঘরে যা সঞ্চয় ও মজুদ ছিল সব শেষ হয়ে গেছে।ঘরে খাবারের কিছু না থাকায় রান্নাও বন্ধ। কালো মিয়া প্রচণ্ড ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে স্ত্রী লাভলীর কাছে খাবার খোঁজে না পেয়ে তাকে মারধর করে। ঘরের হাড়ি পাতিল ভাঙচুর শুরু করে। অন্ধ পল্লীর অন্যদের সহায়তায় দু’দিন হল স্বামীকে শিকলবন্দী করে রাখে স্ত্রী লাভলী।শিকলবন্দী কালো মিয়ার স্ত্রী লাভলী আক্তার জানান, গ্রামের এক লোকের বাড়িতে তিনি গৃহকর্মীর কাজ করতেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে ওই বাড়ির লোকজন তাকে যেতে নিষেধ করেছেন। ঘরে চাল-ডাল যা ছিল এতোদিনে তা ফুরিয়ে গেছে। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসারে রান্নাও বন্ধ। স্বামী, সন্তান নিয়ে উপোস দিন কাটছে তাদের। লাভলীর মতো অন্ধ পল্লীর অন্যরাও জানান, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের সবার। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের ভিত্তবানরাও এগিয়ে আসছেন না।আখাউড়া উপজেলা অন্ধ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি করিম শেখ (৬৫) বলেন, ক’দিন ধরে বউ পোলা-মাইয়্যা নিয়া খেয়ে না খেয়ে ঘরে শুয়ে-বসে সময় পার করছি। একদিন খালি (শুধু) মুখোশ (মাস্ক) আর হাতধোয়ার ঔষুধ দিয়ে গেছে। পেটে দেয়ার মতো খাবার তো কেউ দেয় না। ক্ষুধার জ্বালা আর সহ্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, আর যদি কিছুদিন এমনিতে চলতে থাকি তাইলে ভাইরাসে মরতে অইবো না আমরা ঘরবন্দী থাইকা উপোসে মইরা যামু’।
আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হান্নান ভূঁইয়া স্বপন বলেন, সরকারী কোন বরাদ্দ এখনও পাইনি। তবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের একটি তালিকা করেছি। খুব দ্রুতই তাদের মাঝে কিছু শুকনা খাবার বিতরণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!