মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

দৌলতপুরে মরিচা ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে ৪ বছর যাবৎ গরীবের চাউল আত্বসাতের অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ঃ
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫৫৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে ৪ বছর যাবৎ গরীবের চাউল আত্বসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মরিচা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জিয়ারুল ইসলাম এর স্ত্রী মানছুরা খাতুন এর ভিজিডি কার্ডের ১২ বস্তা চাউল আত্বসাতের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য ২০১৯ সালের ১১ ই মার্চ মানছুরা খাতুন এর নামে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় কর্তৃক মাসে ৩০ কেজি খাদ্যশস্যের ভিজিডি’র কার্ড হয়, কার্ড নম্বর ৪ কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই কার্ড হওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানেননা ভুক্তভোগী মানছুরা।
এদিকে তার ওই কার্ড ব্যবহার করে ১২ মাসের ৩০ কেজি করে খাদ্যশস্য উত্তোলন করে নিয়েছে একটি মহল। যেহেতু কার্ডের স্বত্বাধিকারী মানছুরা নিজেই জানিনা তার কার্ড হওয়ার ব্যাপারে। কোথায় গেল এই ১২ মাসের চাউল ? এমনই প্রশ্ন এলাকার সচেতন মহলের।
ভুক্তভোগী মানছুরা খাতুন জানান, ২০১৯ সালের প্রথমের দিকে স্থানীয় মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানা আমাকে ভিজিডি চাউলের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে। আমি তার কথা অনুসারে আমার ছবি এবং ভোটার আইডি কার্ড তার কাছে দিয়েছিলাম। কিন্তু অনেক দিন পার হলেও আমার নামে কোনো কার্ড হয়নি বলে জানান , অনেক বার ইউনিয়ন পরিষদে গেলে কার্ড হয়নি বলে জানান চেয়ারম্যান । এখন আমি জানতে পারছি আমার নামে কার্ড হয়েছে। কিন্তু এই কার্ডে ১২ বার চাউল উঠেছে টিপসহি দিয়ে, আমার চাউল গেল কোথায়? আমি এটার তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।
অপর দিকে অনুসন্ধানের সময় হঠাৎ করে আরো একজন ব্যক্তি, বৈরাগীর চর গ্রামের মৃত মালু সরদারের ছেলে জামাল সরদার জানান, ২০১৬ সালের শেষের দিকে আমি স্থানীয় মহিলা মেম্বারের হাতে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত খাদ্য বিতরণের যে কার্ড হয়, সেই কার্ড তৈরি করার জন্য ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি দিয়ে ছিলাম, কিন্তু এ পর্যন্ত আমার কার্ড হয়নি বলে জানান মহিলা মেম্বার। হঠাৎ করে যখন বিভিন্ন জায়গায় সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, এই সকল ব্যাপারে তখন মহিলা মেম্বার চলতি মাসের ১৫ তারিখ সকালে আমাকে কার্ডটি নিয়ে এসে দিয়ে বলছে আপনার কার্ড হয়েছে। তাহলে যে কার্ড টি আমাকে দিয়েছে সেই কার্ডটি ১৬ সাল থেকে চাউল উত্তোলন হচ্ছে, আমার চাউল গেল কোথায়? আমি গরীব মানুষ বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচার দাবি করছি ।
এ বিষয়ে মরিচা ইউনিয়নের ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন, বলেন কার্ড হয়েছে দুই জনের, তাদেরকে দিতে গেলে তারা কার্ড গ্রহণ করেনি। তারা বলেন যে এই চাউল আমরা নিব না আপনি নেন গা। কথার এক পর্যায়ে মেম্বার স্বীকার করে ফেলেন তার নিজের নামেও একটি ভিজিডি কার্ড করেছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নামে কি কার্ড থাকে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,আমি একটু অসচ্ছল তাই আমার কার্ডটি চেয়ারম্যান করে দিয়েছে। সবগুলো কার্ডে আমার টিপসই দিয়ে চাউল উত্তোলন হয় বলে মেম্বার এ কথা স্বীকার করেন।
মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম মোবাইলে জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না, এ বিষয়ে কথা বলতে হলে আমার সামনে আসা লাগবে আমি এখন উপজেলা পরিষদে আছি, উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান আমি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং-এ আছি, দেরি হবে আর এখানে আমার বলার মত কি আছে, আমার কিছু বলার নাই আপনারা চলে যান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এ বিষয়ে আমার তেমন কিছু বলার নাই, আপনি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, জনপ্রতিনিধি অথবা সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তা নিজ নামে ভিজিডি’র কোন ধরনের কোন চাউলের কার্ড হওয়া আইনত সঙ্গত নয়। ভিজিডি ও খাদ্য অধিদপ্তরের সুলভ মূল্য চাউলের কার্ড ধারি ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মেম্বর এই কার্ড ১৩ মাস ব্যবহার হচ্ছে কিভাবে ? তিনি বলেন আমি আজ ২ মাস এই উপজেলায় কর্মরত আছি। সকল অনিয়ম খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!