বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা :
জেকে টিভি'র জন্য জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।  আগ্রহীরা ছবি ও যোগ্যতাসহ জীবন বৃত্তান্ত (সি.ভি)  পাঠান। ই-মেইল: jktv1401@gmail.com

দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক সহায়তার তালিকায় একাধিক বিত্তবান প্রবাসির নাম ও স্বজন প্রীতির অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০
  • ২০৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে করোনা ভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ্য, হতদরিদ্র ও কর্মহীনদের মাঝে সরকারীভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তার তালিকা নিয়েও নয়ছয় অবস্থা চলছে। যারা এই অর্থ পাওয়ার কথা অথচ সে অর্থ পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে স্বচ্ছল বা ধনী ব্যক্তিদের নাম। আবার দেশে নেই প্রবাসে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন এমন ব্যক্তির নামও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এই তালিকায়। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে এ তালিকা প্রস্তুত করার কথা থাকলেও ওয়ার্ড কমিটির কোন সদস্যকে না জানিয়ে ঘরে বসে পছন্দের ব্যক্তিদের নাম বা আত্মীয় স্বজনদের নাম তালিকা ভূক্ত করা হয়েছে। আবার একই পরিবারের পিতা-পুত্রসহ একাধিক ব্যক্তির নামও অন্তর্ভূক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ১২হাজার ৬০০জন দরিদ্র ব্যক্তি নগদ অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী তালিকাও প্রস্তুত করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রেরিত তালিকায় হতদরিদ্র, দিনমজুর, দুস্থ্য ও করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব মানুষের নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছল ও বিত্তবানদের নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।

উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক কবিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সে ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের সাথে সমন্বয় না করে তালিকা প্রস্তুত করেছেন। ওই ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, সরকার জহুরুল ইসলাম নামে ওয়ার্ড কমিটির সদস্য জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য তাদের আত্নীয় স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন আমাদের কোন কথা তারা রাখেননি, নামে মাত্র আমাদের নাম বাছাই কমিটিতে রেখেছে কার্যত কিছুইনা আমাদের না জানিয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কমিটির আরো এক সদস্য জানান, ৯০০ জনের তালিকায় চেয়ারম্যান এ.কে.এম. ফজলুল হক কবিরাজের নিজস্ব লোকের নাম আছে প্রায় ৪ শতাধিক তবে এসব তালিকায় বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের তালিকাতেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর করোনা কালীন সরকারী ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় তার নামে আদালত স্ব-প্রনোদিত মামলা করেছেন। তারপরও তিনি সরকারী ভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তার তালিকাতে স্বজন প্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এ ইউনিয়নের বালিরদিয়াড় গ্রামে তাঁর শ^শুরের অর্থ সম্পদ শালী তিন ছেলে এ.কে.এম শাহ জামাল, রিপন থান্ডার ও কামাল থান্ডারের নাম তালিকাভূক্ত করেছেন। একইভাবে বালিরদিয়াড় গ্রামের সম্পদশালী অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর তার ইউনিয়নের মহসিন আলী, শহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান ও মানিকসহ সব গ্রাম পুলিশের নামে সরকারীভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করার। এছাড়াও মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামে স্বামী মকলেছুর রহমান ও তার স্ত্রী রেনুয়ারা খাতুনের নামে নগদ অর্থ সহায়তার তালিকায় নাম রয়েছে। নাম রয়েছে একই পরিবারের আপন দুই ভাই ইদ্রিস আলী ও জিন্দার আলী এবং মিঠুন ও তার ছোট ভাইয়ের। করোনাকালীন ত্রাণ সহায়তা পেয়েছে এমন ব্যক্তির মধ্যে বৈরাগীরচর গ্রামের বিল্লাল, কালু ও হবিবরসহ অনেকের নাম রয়েছে নগদ অর্থ পাওয়ার তালিকায।

একই অভিযোগ দূর্গম চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ইউনিয়ন দৌলতপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারনে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ সরকারী ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিলেও তা দেখার কেউ ছিলনা। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তার তালিকাতেও স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে কোন নিয়মই মানা হয়নি। দরিদ্র, কর্মহীন, দিনমজুর ও দুস্থ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে মনগড়া পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকাভূক্ত করেছেন তিনি। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ বলেছেন, স্বপ্ল সময়ের মধ্যে তড়িঘড়ি করে ওয়ার্ড কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে তালিকা প্রস্তত করা হয়েছে। এতে কেউ বাদ পড়তে পারে আবার কেউ অন্তর্ভূক্ত হতে পারে। এখানে নয়ছয়ের কোন সুযোগ নেই। তবে একটি পক্ষ আছে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জন্য। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত আসলে কিছুই পাবেনা।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের পচামাদিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসে বিলাসবহুল জীবন যাপন করে সদ্য দেশে ফিরেছেন অথচ তার নাম এ তালিকায় রয়েছে। একই অভিযোগ শিরিনা খাতুনের নামে। তার স্বামী বাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে রয়েছেন। পচামাদিয়া গ্রামে অর্থ-সম্পদশালীদের মধ্যে সে একজন। সরকারীভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তার তালিকায় রয়েছে তার নাম। একই ইউনিয়নের তেলিগাংদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শামীম নামে এক শিক্ষক পরিবারের ৬সদস্যের নামে অর্থসহায়তার তালিকাভূক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও দৌলতপুরের আদাবাড়িয়া, বোয়ালিয়া, খলিশাকুন্ডি, পিয়ারপুর, হোগলবাড়িয়া, আড়িয়া, মথুরাপুর ও রিফায়েতপুরহ প্রায় সব ইউনিয়নেই তালিকা প্রস্তুতে এমন জোড়াতালি ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আর সে সব ক্ষেত্রে ভোট হারানোর ভয়ে হতদরিদ্র, দিনমজুর, দুস্থ্য ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবর্তে অর্থবিত্তশালীদের নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।
সরকারীভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তার তালিকার বিষয়ে দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, দৌলতপুরে ১৪ ইউনিয়নের ১২ হাজার ৬০০ জনের নামে তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তালিকা আপলোডিংয়ের কাজ চলছে। তবে তালিকাভূক্তরা নগদ অর্থ সহায়তা কবে নাগাদ পাবে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, অফিসে বসে তালিকা আপলোডিংয়ের কাজ করছি। তালিকা প্রস্তুত করেছে ওয়ার্ড কমিটি। এক্ষেত্রে আমাদের কিবা করার আছে। আর তালিকার বিষয়ে সারা দেশেই এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কর্ষন করছে এলাকাবাসী, প্রকৃত তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....
© All rights reserved © jknewstv.com
Developed By Rinku
themes254654365664
error: Content is protected !!